পুরান ঢাকার মনসুর খান প্লাজায় ভয়াবহ আগুন, পুড়ল ছয়তলার সব মালামাল
রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে মনসুর খান প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালানোর পর ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুনে মার্কেটটির ছয়তলায় থাকা সব মালামাল পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত দুই ফায়ার সার্ভিসকর্মী ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় আগুন লাগার খবর পায় সংস্থাটি। খবর পাওয়ার পরপরই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। আগুনের তীব্রতা ও ভবনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে মোট ১০টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়।
ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, মনসুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ছয়তলার মালামাল পুড়ে ছাই
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে মনসুর খান প্লাজার ছয়তলায় থাকা সব মালামাল পুড়ে গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। আগুনে ভবনের অন্যান্য অংশে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয়েছে। আগুনের ধোঁয়া ও ভবনের ভেতরের পরিস্থিতির কারণে উদ্ধার ও নির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময় ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী।
সরু রাস্তা ও ভবনের কাঠামোয় বেগ পেতে হয়
পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সরু রাস্তা, যান চলাচলের সীমাবদ্ধতা এবং ভবনের কাঠামোগত জটিলতা অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এসব প্রতিবন্ধকতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের বেগ পেতে হয়েছে।
ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ভবনের বিভিন্ন তলায় বিপুল পরিমাণ দাহ্য সামগ্রী থাকলে আগুন নেভানোর কাজ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। মনসুর খান প্লাজার অগ্নিকাণ্ডেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও ঘটনার কারণ নিয়ে অপেক্ষা
আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা জরুরি। আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে হয়েছিল, কীভাবে তা ছড়িয়ে পড়েছিল এবং ভবনের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে স্পষ্ট হতে পারে।
এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। তবে ধোঁয়ায় দুই ফায়ার সার্ভিসকর্মী অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও পরবর্তী সময়ে নিরূপণ করা সম্ভব হবে।
পুরান ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে ভবনের বৈদ্যুতিক সংযোগ, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জরুরি নির্গমনপথ এবং অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। মনসুর খান প্লাজার এ ঘটনা আবারও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
0 Response to "পুরান ঢাকার মনসুর খান প্লাজায় ভয়াবহ আগুন, পুড়ল ছয়তলার সব মালামাল"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন