এলপিজি নিয়ে কারসাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ ও বাজারব্যবস্থা নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, এলপিজি একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এ পণ্যের সরবরাহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কেউ বাজার কারসাজি, বাজারব্যবস্থার অপব্যবহার কিংবা জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতি, আমদানির চ্যালেঞ্জ এবং আগামী বছরজুড়ে বাজারে পর্যাপ্ত এলপিজি নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
কবে নাগাদ এলপিজি-সংকটের সমাধান হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এলপিজি বাংলাদেশে উৎপাদিত নিজস্ব পণ্য নয়; এর সরবরাহ অনেকটাই আমদানিনির্ভর। দেশের বেসরকারি খাতের আমদানিকারকেরা সাধারণত যেসব উৎস থেকে এলপিজি সংগ্রহ করেন, সেসব অঞ্চলে বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ কারণে প্রচলিত উৎসের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও আমদানির সম্ভাবনা খুঁজতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
মন্ত্রী জানান, শুধু তাৎক্ষণিক সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য নয়। দীর্ঘমেয়াদে যেন সরবরাহে ঘাটতি তৈরি না হয়, বাজার স্থিতিশীল থাকে এবং আগামী বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত এলপিজি পাওয়া যায়, সে লক্ষ্যে একটি কার্যকর কৌশল প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়গুলো নিয়েই এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
এদিকে এলপিজি ডিলারদের ধর্মঘটের হুমকির বিষয়টিও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। চলতি সপ্তাহের শেষ দুই দিন ধর্মঘট পালনের হুমকি দিয়েছেন ডিলাররা। তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া এবং ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে এ বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বৈঠক হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে লাভ-লোকসান, কমিশনের হার কিংবা অন্যান্য শর্ত নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনতে এবং তাদের সমস্যার সমাধানে প্রস্তুত রয়েছে। তবে বাণিজ্যিক বিরোধকে কেন্দ্র করে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত করা কিংবা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার চেষ্টা সরকার মেনে নেবে না।
এলপিজির দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দরের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্দিষ্ট একটি ফর্মুলার মাধ্যমে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়। ফলে বাজারের পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং মূল্য নির্ধারণের নিয়মের সঙ্গে সরবরাহ ও ব্যবসায়িক বিষয়গুলোও সম্পর্কিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমদানিকারক ও অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উপায় খুঁজছে সরকার।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানির উৎসে অস্থিরতা এবং ডিলারদের ধর্মঘটের হুমকি একসঙ্গে কার্যকর হলে এলপিজি বিতরণব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় সরবরাহ অব্যাহত রাখা, ব্যবসায়ীদের দাবি নিয়ে আলোচনা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারও দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ পরিকল্পনা ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
0 Response to "এলপিজি নিয়ে কারসাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন