বৃহস্পতি-শুক্রবার সারা দেশে বন্ধ থাকবে এলপিজি সিলিন্ডারের দোকান
এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি সেলিম খান এ ঘোষণা দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্ধারিত দুই দিন দেশের সব সিলিন্ডারের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন দোকান বন্ধ রাখছেন ব্যবসায়ীরা?
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম খান অভিযোগ করেন, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ ও সরবরাহসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতেই দেশব্যাপী দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটির সভাপতি বলেন, দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হতে পারে।
তবে ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট সব দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এবং দোকান বন্ধের কর্মসূচিতে কতসংখ্যক ব্যবসায়ী অংশ নেবেন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনের বর্ণনায় স্পষ্ট করা হয়নি।
পাঁচ কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে বাজার—ব্যবসায়ী নেতার অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন নাসিম অভিযোগ করেন, মাত্র পাঁচটি কোম্পানির হাতে এলপিজি সিলিন্ডারের বিপণন কার্যক্রম কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, এসব কোম্পানির মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী কায়দায় এলপিজির দাম বাড়ানো হচ্ছে।
তবে বাজারে কোম্পানিগুলোর প্রকৃত অংশীদারত্ব, মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া এবং অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা
এলপিজি বাজার নিয়ে ব্যবসায়ীদের অসন্তোষের মধ্যে সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। একই সঙ্গে অন্যান্য ওজনের সিলিন্ডারের দামও সমন্বয় করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
তবে ঘোষিত দামের সঙ্গে খুচরা বাজারের দামের পার্থক্য নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনেক জায়গায় নির্ধারিত দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ
ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, এমনকি ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।
নির্ধারিত মূল্য ও বাজারদরের মধ্যে এমন ব্যবধান থাকলে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়ে। বিশেষ করে রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।
তবে উল্লিখিত অতিরিক্ত দামের অভিযোগ কোন কোন এলাকার বাজার থেকে পাওয়া গেছে, তা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই সারা দেশের বাজারে একই দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
দোকান বন্ধ থাকলে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন গ্রাহকেরা
আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দোকান বন্ধ রাখার কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহকদের সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে বিকল্প রান্নার ব্যবস্থা নেই, তাদের জন্য দুই দিনের সরবরাহ-বিঘ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে কর্মসূচির সময় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ, পরিবেশকদের কার্যক্রম এবং দোকান বন্ধের পরিধি কেমন থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের দাবি, এলপিজির সরবরাহ ও মূল্যসংক্রান্ত অভিযোগ এবং ভোক্তাদের স্বার্থ—দুই বিষয়েই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। দোকান বন্ধের কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর থাকবে
0 Response to "বৃহস্পতি-শুক্রবার সারা দেশে বন্ধ থাকবে এলপিজি সিলিন্ডারের দোকান"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন