স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


 লালমনিরহাটে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ এবং ঘটনার ভিডিও ধারণের মামলায় নুরনবী নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও দায়রা জজ নিত্যানন্দ সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। এ মামলায় পর্নোগ্রাফি আইনের পৃথক ধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আরও কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত নুরনবী হাতীবান্ধা উপজেলার উত্তর বিছনোদই এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে।

২০১৫ সালের ঘটনা, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া

এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে এক স্কুলছাত্রী তার বাবার শাকের খেত দেখতে গিয়েছিল। এ সময় মাঠে কাজ করা নুরনবী তাকে একা পেয়ে পাশের একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার পর স্কুলছাত্রীর পরিবার হাতীবান্ধা থানায় মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে নুরনবীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে আদালতে বিচারকাজ শুরু হয়।

দীর্ঘ শুনানি ও ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সোমবার আসামির উপস্থিতিতে মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক। আদালতের রায়ে নুরনবীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে আরও কারাদণ্ড ও জরিমানা

আদালতের রায় অনুযায়ী, ধর্ষণের দায়ে নুরনবীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাঁকে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া ভিডিও ধারণের ঘটনায় পর্নোগ্রাফি আইনের একটি ধারায় তাঁকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনের অপর একটি ধারায় তাঁকে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

অপর দুই আসামি খালাস

মামলার অপর দুই আসামি একই এলাকার মোবারক আলী ও বেলাল হোসেনকে পর্নোগ্রাফি আইনের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান জানান, এ রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট। তাঁর মতে, আদালত ন্যায়বিচার করেছেন এবং এ ধরনের রায় সমাজে অপরাধ প্রতিরোধে দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করতে পারে।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে ভুক্তভোগীর জন্য বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলো।

0 Response to "স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন