নারায়ণগঞ্জে কুবি ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি ভাড়া বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য জানান ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম। এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ
ফারজানার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। প্রায় তিন বছর আগে একই বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল বলে জানিয়েছে পরিবার।
ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলামের দাবি, বিভিন্ন সময়ে তার পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা নিয়েছিলেন নাজমুল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নাজমুল চাকরি পাওয়ার পর অর্থের চাহিদা আরও বেড়ে যায় এবং টাকা দেওয়ার জন্য চাপের পাশাপাশি ফারজানার ওপর নির্যাতনও চলতে থাকে।
পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে গত বছরের ডিসেম্বরে স্বামীর বাসা ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন ফারজানা। পরে স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, পরবর্তী সময়ে নির্যাতন না করার আশ্বাস এবং পারিবারিক সমঝোতার উদ্যোগের মধ্যে মামলাটি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলে।
আরিফুল ইসলামের অভিযোগ, ঘটনার আগের দিন নাজমুলের দুলাভাই তাকে ফোন করে মামলা প্রত্যাহার হয়েছে কি না জানতে চান। তিনি জানান, মামলা প্রত্যাহার হয়ে গেছে বলে তিনি জানতেন এবং এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রও পাওয়া গেছে বলে তার ধারণা ছিল।
পরিবারের দাবি, মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ফারজানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি পরিবারের অভিযোগ; এ বিষয়ে পুলিশের তদন্তে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
মৃত্যুর আগে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল
আরিফুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে বোনের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তখন ফারজানার কথাবার্তায় অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি। পরিবারের দাবি, ওই সন্ধ্যায় তিনি খাবারের জন্য চিপস ও কোমল পানীয়ও কিনেছিলেন। পরে রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ফোন করে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
সন্ধ্যায় স্বাভাবিক কথাবার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুর খবর পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে জানান আরিফুল। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ফারজানা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামী নাজমুল ইসলাম একই বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) গাজী সুমন মাহতাব জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারজানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পায়। এ ঘটনায় তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পরিবারের অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
0 Response to "নারায়ণগঞ্জে কুবি ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন