ঝালকাঠির দুই নদীতে অভিযান: ২৬ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ইলিশ জব্দ
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে অভিযান চালিয়েছে মৎস্য বিভাগ। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এসব অভিযানে ২৬ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৫ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দ করা জাল নদীর তীরে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। উদ্ধার করা ইলিশ স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলার সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর প্রায় ৮৫ কিলোমিটার এলাকায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান চলছে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় মৎস্য বিভাগের চারটি মোবাইল টিম নদীতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় নদীতে অবৈধভাবে জাল ফেলে মাছ ধরার চেষ্টা করা কয়েকজন জেলে অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নদীতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় কেউ যাতে ইলিশ শিকার করতে না পারে, সে জন্য মৎস্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার ও নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইয়্যেদা বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে নদীতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ শিকার বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো একযোগে কাজ করছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক জানান, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নদীতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযান আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ রয়েছে। ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীসহ নির্ধারিত নদ-নদী ও জলসীমায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো মা ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া এবং ইলিশের বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। এ সময়ে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার বা নিষিদ্ধ কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা জরুরি
0 Response to "ঝালকাঠির দুই নদীতে অভিযান: ২৬ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ইলিশ জব্দ"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন