ইরান সীমান্তের কাছে গিয়ে ফিরে এলো কয়েক ডজন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান
ইরান সীমান্তের কাছাকাছি গিয়ে আবারও ইসরায়েলে ফিরে এসেছে কয়েক ডজন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ। সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে পরিচালিত এই সামরিক অভিযানের খবর প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিমানগুলো ইরানের সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছালেও দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানগুলোর যাত্রাপথ এমন ছিল, যা ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হতে পারে। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রকে আগেই এই অভিযানের কথা জানিয়েছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের আগে ইরানকে সম্ভাব্য হামলা থেকে বিরত রাখতে শক্তি প্রদর্শন ও সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের উদ্দেশ্য নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সন্দেহ
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা ইসরায়েলের ব্যাখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ধারণা, ইরানের সীমান্তের কাছে যুদ্ধবিমান নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে প্রতিক্রিয়া জানাতে প্ররোচিত করার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। ইরান যদি বিমানগুলো লক্ষ্য করে গুলি বা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ত, তাহলে সেটিকে পাল্টা হামলার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হতো—এমন সন্দেহের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এটি মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা বা সন্দেহ; ইসরায়েলের প্রকৃত উদ্দেশ্য হিসেবে বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি বাহিনী ওই বিমানগুলোর বিরুদ্ধে গুলি বা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়েনি। ফলে কোনো তাৎক্ষণিক সংঘর্ষ ছাড়াই বিমানগুলো ফিরে আসে।
ইসরায়েলি পক্ষ এই অভিযানকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ইরানকে ঘিরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে।
ইরানে নতুন হামলা নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মতবিরোধ
এর আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চলতি মাসের শুরুতে ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চেয়েছিলেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে সংঘাত নতুন করে শুরু করার বিষয়ে সম্মতি দেননি বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সরকারি ও সামরিক সংশ্লিষ্ট স্থাপনা এবং জ্বালানি অবকাঠামোর কথা আলোচনায় এসেছিল। তবে নতুন হামলা বাস্তবে শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আগামী ৩ নভেম্বর এবং ইসরায়েলের নির্বাচন ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই দুই নির্বাচনের আগে ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাত শুরু হলে তার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে।
ইরান সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান পাঠানোর ঘটনা তাই আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বিমানগুলোর এই যাত্রা সরাসরি হামলার প্রস্তুতি ছিল, নাকি ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী শক্তি প্রদর্শন ও প্রশিক্ষণের অংশ—তা নিয়ে এখনো ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে
0 Response to "ইরান সীমান্তের কাছে গিয়ে ফিরে এলো কয়েক ডজন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন