ইরানি সেনাবাহিনীর কাছে নতুন সরঞ্জামের বিশাল মজুদ রয়েছে : মুখপাত্র

ইরানি সেনাবাহিনীর কাছে নতুন সরঞ্জামের বিশাল মজুদ রয়েছে : মুখপাত্র

 

ইরানের সেনাবাহিনীর কাছে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোনসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জামের বড় মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছেন বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামি-নিয়া। একই সঙ্গে নতুন অস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম উৎপাদনের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আকরামি-নিয়া বলেন, চলমান সংঘাত থেকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিভিন্ন দুর্বলতা চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবিলার কৌশলও তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধের সময় প্রতিদিনই সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন অব্যাহত ছিল। বর্তমানে সেই উৎপাদন কার্যক্রম পূর্ণগতিতে চলছে। তার দাবি, সেনাবাহিনীর কাছে বর্তমানে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম মজুত রয়েছে এবং সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে বাহিনী প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।

আকরামি-নিয়া আরও জানান, ইরানের সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে নতুন ধরনের কিছু অস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম ব্যবহার শুরু করেছে। তবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো কৌশলগত কিছু সামরিক সরঞ্জাম প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত সময়ে প্রকাশ্যে আনা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইরানি সেনাবাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে এই বক্তব্য সামনে এলো। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংঘাতকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সামরিক হামলা, পাল্টা হামলা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপও অব্যাহত রয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে আলোচনা চলছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে দেশটির অটোমোবাইল ও রেল খাতসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও সরবরাহকারীকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য ইরানের যুদ্ধ পরিচালনা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও সামরিক কার্যক্রমে অর্থের প্রবাহ কমানো।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাত ও এর ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক বক্তব্য দিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুদ্ধের অবসান হতে পারে। একই সময়ে সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে রাজনৈতিক চাপও তৈরি হয়েছে।

ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ানো এবং নতুন অস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান। তবে কোন ধরনের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন কখন প্রকাশ্যে আনা হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানাননি

0 Response to "ইরানি সেনাবাহিনীর কাছে নতুন সরঞ্জামের বিশাল মজুদ রয়েছে : মুখপাত্র"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন