সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা নিয়ে এএপির ক্ষোভ

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা নিয়ে এএপির ক্ষোভ


 ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার সমালোচনা করেছে আম আদমি পার্টি (এএপি)। দলটির নেতাদের অভিযোগ, বিক্ষোভ ঠেকাতে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।

এএপির বিধায়ক গোপাল রায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় বলেন, সিইসিকে রক্ষা করার নামে কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লিকে প্রায় সামরিক ঘাঁটির মতো করে তুলেছে। তাঁর ভাষ্য, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে আন্দোলন দমন করা সম্ভব হবে না। সিজেপির দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনিও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন।

এএপির দিল্লি শাখার সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরা অহিংস উপায়ে নিজেদের দাবি জানাতে চান। তরুণদের জোর করে নীরব না রেখে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা উচিত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কথিত ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার সকাল ১০টায় নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেয় সিজেপি। দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। তবে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নির্ধারিত সময়েই কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করা হবে।

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ২৫ হাজারের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) সদস্য মোতায়েন, বিভিন্ন স্থানে ৩০০টির বেশি ক্যামেরা স্থাপন এবং একাধিক পরিবহনসেবা সীমিত করার তথ্য দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং দিল্লিগামী ২৫০টি ট্রেন বাতিলের দাবিও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

এ ছাড়া শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে চলা অভিযানে নয়াদিল্লি ও আশপাশের এলাকা থেকে এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সিজেপির কয়েকজন সংগঠক, দলের আইন শাখার প্রধান এবং ইউটিউবার-ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠির নামও উল্লেখ রয়েছে। তবে আটকের সংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এএপির সর্বভারতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। একই সঙ্গে তরুণদেরও কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সিইসির পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে এই ঘটনাপ্রবাহ ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিক্ষোভের অনুমতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং আটকের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

0 Response to "সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা নিয়ে এএপির ক্ষোভ"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন