মানবপাচার ও অনিরাপদ অভিবাসন রোধে ইমামদের সচেতনতা তৈরির আহ্বান
মানবপাচার ও অনিরাপদ পথে বিদেশযাত্রার ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ইমাম, আলেম ও ওলামাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী। তিনি বলেছেন, মসজিদের খুতবা ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা গেলে অনিরাপদ অভিবাসন এবং মানবপাচারের ঝুঁকি থেকে অনেককে রক্ষা করা সম্ভব।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে ইমামদের নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ প্রকল্পের আওতায় কর্মশালাটির আয়োজন করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
জুমার খুতবায় মানবপাচারের ঝুঁকি তুলে ধরার আহ্বান
মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী বলেন, মানুষের জীবন রক্ষায় সচেতনতা তৈরির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইমামরা ধর্মীয় আলোচনা ও খুতবার মাধ্যমে মানুষের কাছে মানবপাচার এবং অনিরাপদ অভিবাসনের ঝুঁকি তুলে ধরতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, জুমার খুতবার আলোচ্যসূচিতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাশাপাশি মানবপাচার ও অনিরাপদ অভিবাসনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি। এর মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণা ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা সম্ভব হবে।
৪৯টি মসজিদে সচেতনতামূলক কার্যক্রম
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান। দেশে অভিবাসনের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সাগরপথে বিদেশে যেতে গিয়ে বাংলাদেশিদের প্রাণহানি, প্রতারণা ও নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি জানান, গত কয়েক মাসে ৪৯টি মসজিদে ইমামদের খুতবার মাধ্যমে ২৩ হাজারের বেশি মানুষকে সচেতন করা হয়েছে। মানবপাচার, অভিবাসী চোরাচালান ও অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
শরিফুল হাসানের মতে, দেশের বিভিন্ন এলাকার ইমাম ও আলেমরা সমন্বিতভাবে এসব বিষয়ে মানুষকে সচেতন করলে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন কমানো এবং সম্ভাব্য প্রাণহানি ঠেকাতে ভূমিকা রাখা সম্ভব।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন, অনুবাদ ও সংকলন বিভাগের পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান সিকদার, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ খান, গবেষণা বিভাগের পরিচালক ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান এবং উপসচিব মো. গোলাম কবির।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ইমাম সমিতির মহাসচিব মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ম্যানেজার শায়লা শারমিন।
0 Response to "মানবপাচার ও অনিরাপদ অভিবাসন রোধে ইমামদের সচেতনতা তৈরির আহ্বান"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন