অ্যান্ড্রয়েডে গুগলের ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থা

অ্যান্ড্রয়েডে গুগলের ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থা


 ভূমিকম্পের সময় কয়েক সেকেন্ডের সতর্কবার্তাও মানুষকে দ্রুত নিরাপদ অবস্থানে যাওয়ার সুযোগ দিতে পারে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে অ্যান্ড্রয়েড ফোনভিত্তিক ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থার পরিসর বাড়িয়েছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটির ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর ঘোষণায় বলা হয়েছে, অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম এখন বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে চালু হয়েছে। ২০২১ সালে ব্যবস্থা চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত এক বিলিয়নেরও বেশি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গুগল।

এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, ভূমিকম্প শনাক্ত করতে শুধু প্রচলিত ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ওপর নির্ভর না করে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সেন্সর থেকেও সংকেত নেওয়া হয়। তবে এটি ভূমিকম্প হওয়ার আগেই তা অনুমান করে না; ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর শনাক্ত হওয়া সংকেত বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ক্ষতিকর কম্পন পৌঁছানোর আগে কিছু ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা পাঠাতে পারে।

ফোনের সেন্সর যেভাবে ভূমিকম্প শনাক্ত করে

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকা অ্যাক্সিলেরোমিটার সেন্সর ফোনের নড়াচড়া ও কম্পন শনাক্ত করতে পারে। ভূমিকম্প শুরু হলে এই সেন্সর থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ভূমিকম্পের প্রাথমিক সংকেত খোঁজা হয়।

একটি ফোনে কম্পন ধরা পড়লেই সেটিকে নিশ্চিত ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। একই এলাকার একাধিক ফোন থেকে পাওয়া সংকেত একত্রে বিশ্লেষণ করে গুগলের ব্যবস্থা সম্ভাব্য ভূমিকম্প শনাক্ত করার চেষ্টা করে। এরপর অবস্থান ও সম্ভাব্য কম্পনের তীব্রতা বিবেচনায় উপযুক্ত এলাকার ব্যবহারকারীদের সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।

এই পদ্ধতিতে ভূমিকম্পের ক্ষতিকর ঝাঁকুনি পৌঁছানোর আগে কিছু ব্যবহারকারী কয়েক সেকেন্ড সময় পেতে পারেন। তবে ভূমিকম্পের অবস্থান, দূরত্ব ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে সতর্কবার্তা পাওয়ার সময় ভিন্ন হতে পারে; কখনো কম্পন শুরু হওয়ার আগেই সতর্কতা নাও পৌঁছাতে পারে।

কী ধরনের সতর্কবার্তা পাওয়া যায়

গুগলের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ড্রয়েডের এই ব্যবস্থায় কম্পনের সম্ভাব্য তীব্রতা অনুযায়ী তিন ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

১. Be Aware: 

কাছাকাছি হালকা কম্পন শনাক্ত হলে সাধারণ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীকে সম্ভাব্য ভূমিকম্প সম্পর্কে জানানো।

২. Be Ready: 

তুলনামূলক শক্তিশালী কম্পনের আশঙ্কা থাকলে আরও বিস্তারিত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়, যাতে ব্যবহারকারী দ্রুত নিরাপত্তার প্রস্তুতি নিতে পারেন। গুগল জানিয়েছে, এই সতর্কবার্তায় ধাপে ধাপে মানচিত্র, কম্পন শনাক্ত হওয়া এলাকার পরিসর, সম্ভাব্য ভূমিকম্পের মাত্রা এবং করণীয় সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

৩. Take Action: 

মাঝারি থেকে তীব্র ঝাঁকুনির ক্ষেত্রে পূর্ণ পর্দাজুড়ে সতর্কবার্তা দেখানো হতে পারে। এতে দ্রুত নিরাপদ অবস্থান নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্কবার্তাটি জোরে শব্দও করতে পারে।

ভূমিকম্পের সতর্কতা পেলে সম্ভব হলে মাটিতে নিচু হয়ে বসুন, শক্ত টেবিলের নিচে আশ্রয় নিন এবং মাথা ও ঘাড় ঢেকে রাখুন। কম্পন চলাকালে জানালা, কাচ ও ভারী আসবাব থেকে দূরে থাকুন। ভবনের বাইরে দৌড়ে যাওয়ার চেষ্টা না করে আশপাশের ঝুঁকি বিবেচনায় নিরাপদ আশ্রয় নিন।

ফোনে ফিচারটি চালু করবেন যেভাবে

এই সুবিধা পেতে সাধারণত আলাদা কোনো অ্যাপ ইনস্টল করতে হয় না। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সেটিংস থেকে ফিচারটি চালু আছে কি না যাচাই করা যায়।

১. ফোনের Settings খুলুন।

২. Safety & emergency 

অপশনে গিয়ে Earthquake alerts নির্বাচন করুন। এই অপশন না থাকলে Settings-এর সার্চ বারে ‘Earthquake alerts’ লিখে খুঁজুন। কিছু ফোনে এটি Location সেটিংসের অধীনেও থাকতে পারে।

৩. Earthquake alerts 

চালু আছে কি না নিশ্চিত করুন।

৪. ফোনের Location এবং Wi-Fi বা মোবাইল ডেটা সংযোগ চালু রাখুন। 

গুগলের নির্দেশনা অনুযায়ী, সতর্কবার্তা পেতে ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন।

গুগলের সহায়তা পৃষ্ঠা অনুযায়ী, বাংলাদেশও অ্যান্ড্রয়েডের ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থা চালু থাকা দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। তবে সব ভূমিকম্প শনাক্ত করা সম্ভব নয়, আর সতর্কবার্তা সব সময় কম্পন শুরু হওয়ার আগে পৌঁছাবে—এমন নিশ্চয়তাও নেই।

তাই এই প্রযুক্তিকে জরুরি প্রস্তুতির সহায়ক হিসেবে দেখা উচিত, একমাত্র নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবে নয়। ভূমিকম্পের সময় কী করতে হবে, তা আগে থেকে জানা এবং বাড়ি ও কর্মস্থলে নিরাপদ আশ্রয়ের জায়গা চিহ্নিত করে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ

0 Response to "অ্যান্ড্রয়েডে গুগলের ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থা"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন