ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কঠোর বার্তা ডিএনসিসি প্রশাসকের

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কঠোর বার্তা ডিএনসিসি প্রশাসকের


 ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, অনিয়ম কিংবা বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, প্রকৃত ও যোগ্য পরিবার যেন এই কর্মসূচির সুবিধা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ নিয়ে দলের ভেতরে কেউ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা-১৫ আসনে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে শফিকুল ইসলাম খান বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে বলেন, তাঁর মতে, বিএনপি জনগণের দল এবং প্রধানমন্ত্রী জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছেন। ফ্যামিলি কার্ডকে তিনি নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফ্যামিলি কার্ডে প্রকৃত পরিবারকে অগ্রাধিকার

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জনগণের জন্য উপহার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির সুবিধা যেন সঠিক পরিবারের কাছে পৌঁছায়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিভ্রান্তি ছড়ালে কিংবা এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কার্ড বিতরণে পক্ষপাত বা দলীয় বিভাজনের পরিবর্তে যোগ্য পরিবার শনাক্ত করাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে উপকারভোগীদের সঠিক তথ্য যাচাই এবং যোগ্যতা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা গেলে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো সহজ হবে। তবে কারা কার্ড পাওয়ার যোগ্য হবেন, সে বিষয়ে নির্ধারিত নীতিমালা ও যাচাইপ্রক্রিয়া অনুসরণ করাও জরুরি।

সিটি নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে প্রশাসকের বক্তব্য

আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, যাঁরা জনগণের পাশে থাকবেন এবং নগরবাসীর সমস্যা সমাধানে বাস্তব ভূমিকা রাখবেন, তাঁদেরই দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হবে।

বিশেষ করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর পরিচ্ছন্নতা এবং ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ কর্মসূচির মতো সেবামূলক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রশাসকের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, জনগণের জন্য কাজ করার মানসিকতা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডও মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। তিনি বলেন, যাঁরা মানুষের পাশে থেকে কাজ করবেন না, তাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না।

তবে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এবং প্রার্থীদের মূল্যায়নের নির্দিষ্ট মানদণ্ড সম্পর্কে অনুষ্ঠানে বিস্তারিত জানানো হয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ফুটপাত ও সড়ক হকারমুক্ত করার পরিকল্পনা

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সড়ক ও ফুটপাত ব্যবস্থাপনা নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রশাসক। তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই নগরীর সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে চলাচলের উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নগরবাসীকে নান্দনিক ও ব্যবহারবান্ধব ফুটপাত উপহার দিতে চায় ডিএনসিসি। ফুটপাত দখলমুক্ত করা গেলে পথচারীদের চলাচল সহজ হবে এবং সড়কে যানজট কমাতেও সহায়তা মিলতে পারে।

তবে ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় হকারদের জীবিকা, নির্ধারিত ব্যবসার স্থান এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের মধ্যে ভারসাম্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পুনর্বাসন, বিকল্প স্থান নির্ধারণ এবং নিয়মিত তদারকির মতো বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।

নগরসেবায় জোর দেওয়ার বার্তা

শফিকুল ইসলাম খানের বক্তব্যে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচন, আসন্ন সিটি নির্বাচন এবং নগর ব্যবস্থাপনার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। একদিকে তিনি ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়েছেন, অন্যদিকে নগরসেবায় সক্রিয় ভূমিকা রাখাকে দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

এখন এসব ঘোষণার বাস্তবায়ন কীভাবে হয়, ফ্যামিলি কার্ডের যোগ্য পরিবার কীভাবে চিহ্নিত করা হয় এবং সড়ক-ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়—সেদিকে নজর থাকবে নগরবাসীর। সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলো স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়িত হলে নাগরিক সেবা ও নগর ব্যবস্থাপনায় তার প্রভাব মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

0 Response to "ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কঠোর বার্তা ডিএনসিসি প্রশাসকের"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন