ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে কমছে পেসারদের গতি?

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে কমছে পেসারদের গতি?


 ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিস্তারের কারণে দ্রুতগতির বোলারদের আগ্রাসন কমে যাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার ব্রেট লি। তাঁর মতে, বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ এবং বিপুল অর্থ উপার্জনের সম্ভাবনা পেসারদের চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ক্রিকেট খেলার লক্ষ্য থেকে অনেক বোলার শরীরের ওপর চাপ কমিয়ে তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত গতিতে বল করার দিকে ঝুঁকছেন বলে ধারণা তাঁর।

একসময় ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে নিয়মিত বল করা পেসারদের নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ ছিল। কিন্তু বর্তমান ক্রিকেটে এমন গতির বোলারদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন লি। তরুণ বোলারদের আরও বেশি গতি অর্জনের চ্যালেঞ্জ নিতে দেখতে চান তিনি। বিশেষ করে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতির মাইলফলক ছোঁয়ার চেষ্টা নতুন প্রজন্মের পেসারদের মধ্যে দেখতে আগ্রহী অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই তারকা।

উইজডেনের ‘স্কুপ এক্সটেন্ডেড’ অনুষ্ঠানে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেন লি। তিনি বলেন, তরুণ পেসারদের ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতির বাধা অতিক্রম করার চ্যালেঞ্জ নেওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান ক্রিকেটে তিনি তেমন উদ্যোগ খুব একটা দেখতে পাচ্ছেন না। তরুণ বোলারদের দৌড়ে এসে প্রচণ্ড গতিতে বল করতে দেখার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারের চিন্তা কি কমাচ্ছে বোলারদের গতি?

ব্রেট লির উদ্বেগের অন্যতম কারণ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আর্থিক আকর্ষণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একাধিক টি-টোয়েন্টি লিগ অনুষ্ঠিত হয়। এসব প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পেলে একজন ক্রিকেটারের আয় বাড়তে পারে এবং দীর্ঘ সময় পেশাদার ক্রিকেটে থাকার সুযোগও তৈরি হতে পারে। লির ধারণা, এই বাস্তবতা পেসারদের বোলিংয়ের গতি ও শরীরের ওপর চাপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।

লি মনে করেন, একজন পেসার যদি দীর্ঘদিন খেলা চালিয়ে যেতে চান, তাহলে তাঁকে নিজের শরীরের যত্ন নিতে হবে এবং মাঠে টিকে থাকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গতি তোলার জন্য শরীরের ওপর বেশি চাপ দেওয়ার পরিবর্তে কেউ কেউ ঘণ্টায় ১৩৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করাকে তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন।

এ বিষয়ে লি বলেন, দীর্ঘদিন খেলতে চাইলে মাঠে টিকে থাকা জরুরি। তাঁর মতে, এই চিন্তা থেকে পেসারদের কাছে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতির সীমা অতিক্রম করার আকর্ষণ কমে যেতে পারে। তাঁরা হয়তো শরীরের ওপর চাপ কমাতে ঘণ্টায় ১৩৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতির মধ্যে থাকতে চাইছেন।

বিষয়টি তাঁকে চিন্তায় ফেলে বলে জানান লি। কারণ, তিনি তরুণ পেসারদের দৌড়ে এসে সর্বোচ্চ গতি নিয়ে বল করতে দেখতে চান। তাঁর বক্তব্যে দ্রুতগতির বোলিংয়ের প্রতি আগ্রহ এবং আধুনিক ক্রিকেটে পেসারদের দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়ার বাস্তবতার মধ্যে একটি সম্ভাব্য দ্বন্দ্ব উঠে এসেছে।

দ্রুততম বলের রেকর্ডে ব্রেট লি ও শোয়েব আখতার

ব্রেট লি নিজেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুতগতির বোলারদের অন্যতম হিসেবে পরিচিত। ২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘণ্টায় ১৬০ দশমিক ৮ কিলোমিটার গতিতে বল করেছিলেন তিনি। তাঁর ক্যারিয়ারের এই গতি তাঁকে ক্রিকেটের দ্রুততম বোলারদের আলোচনায় বিশেষ জায়গা দিয়েছে।

তবে সর্বোচ্চ গতির রেকর্ডে লির চেয়েও এগিয়ে রয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক পেসার শোয়েব আখতার। ২০০৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘণ্টায় ১৬১ দশমিক ৩ কিলোমিটার গতিতে বল করেছিলেন শোয়েব। এই গতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুততম বলের ঐতিহাসিক রেকর্ড হিসেবে পরিচিত।

লি চান, নতুন প্রজন্মের পেসাররাও সর্বোচ্চ গতিতে বল করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে আসুক। তাঁর বক্তব্য মূলত দ্রুতগতির বোলিংয়ের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ এবং পেসারদের আগ্রাসী মনোভাব ধরে রাখার পক্ষে। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটই যে বোলারদের গতি কমার একমাত্র কারণ, এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেছেন—এমন তথ্য দেওয়া হয়নি। বরং দীর্ঘ ক্যারিয়ার, শরীরের ওপর চাপ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আর্থিক সুযোগের মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক এই অস্ট্রেলীয় তারকা।

0 Response to "ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে কমছে পেসারদের গতি?"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন