বগুড়ায় ৫ বছরের শিশুকে হত্যার স্বীকারোক্তি মায়ের
বগুড়ার সোনাতলায় পাঁচ বছরের শিশু ইউসুফকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তার মা রিনি খাতুন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে রিনিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে নেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে শিশু ইউসুফ হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত ইউসুফ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বালুয়াহাট এলাকার বাসিন্দা উজ্জ্বল ইসলামের সৎ ছেলে। গত সোমবার থেকে নিখোঁজ ছিল শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সোনাতলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন উজ্জ্বল।
নিখোঁজের তিন দিন পর বুধবার দুপুরে উপজেলার বড় বালুয়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে ইউসুফের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর শিশুটির মৃত্যুর কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে ইউসুফের বাবা পলাশ ও মা রিনির বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে রিনি বাসচালক উজ্জ্বলকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ইউসুফকে সঙ্গে নিয়ে তারা সোনাতলার বালুয়া বাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাতলা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে ইউসুফ হত্যাকাণ্ডে তার মা রিনি বেগমের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা বলেন।
তবে কী কারণে এবং কীভাবে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা মোবারক হোসেন।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
পাঁচ বছরের শিশু ইউসুফের মৃত্যু এবং এ ঘটনায় তার মায়ের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যার পেছনের কারণ এবং অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে।
0 Response to "বগুড়ায় ৫ বছরের শিশুকে হত্যার স্বীকারোক্তি মায়ের"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন