লাকসামে নিখোঁজের ১০ দিন পর ধানক্ষেতে যুবকের মরদেহ
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় নিখোঁজের ১০ দিন পর কাউসার হোসেন (২৩) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বাকই ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরদেহের পাশ থেকে বস্তাবন্দী বেশ কিছু সিগারেটও পাওয়া গেছে।
নিহত কাউসার হোসেন তারাপুর পূর্বপাড়ার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম ছিলেন। পেশায় তিনি অটোরিকশাচালক ছিলেন।
১০ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন কাউসার
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কাউসার নিখোঁজ হন। এরপর স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে তাঁর খোঁজ করেন এবং মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা চালান। তবে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রোববার সকালে তারাপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী কামরুন্নাহার লায়লী ও উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মরদেহের পাশে সিগারেট, চুরির ঘটনার সঙ্গে যোগসূত্রের সন্দেহ
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি কাউসারের বাড়ির পাশের একটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। ধানক্ষেতে তাঁর মরদেহের পাশে বস্তাবন্দী অবস্থায় সিগারেট পাওয়ায় স্থানীয়দের কেউ কেউ ওই চুরির ঘটনার সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তবে সিগারেট উদ্ধারের সঙ্গে দোকানে চুরির ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
লাকসাম থানার ওসি কাজী কামরুন্নাহার লায়লী বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।
সাংবাদিকের সঙ্গে ওসির আচরণ নিয়ে অভিযোগ
এদিকে, ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহের সময় সৌরভ হোসেন নামে এক সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ধারণ করা ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওসি কাজী কামরুন্নাহার লায়লীর বিরুদ্ধে। ওই সাংবাদিকের অভিযোগ, এ সময় তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে ওসি কামরুন্নাহার লায়লী বলেন, ওই সাংবাদিক গোপনে তাঁর ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ কারণে তিনি মুঠোফোনটি নিয়েছিলেন এবং পরে ফেরত দিয়েছেন। পাশাপাশি ভিডিওগুলো মুছে ফেলার জন্য সাংবাদিককে অনুরোধ করেছিলেন বলে জানান তিনি।
১০ দিনের ব্যবধানে ধানক্ষেত থেকে আরেক মরদেহ উদ্ধার
এর আগে, গত ৮ অক্টোবর কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর ১০ দিনের ব্যবধানে লাকসামের আরেকটি ধানক্ষেত থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটল।
কাউসারের মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনাটির সঙ্গে অন্য কোনো অপরাধের যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে
0 Response to "লাকসামে নিখোঁজের ১০ দিন পর ধানক্ষেতে যুবকের মরদেহ"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন