১৩৮ কিমি গতিতে বল করে চমক
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিভাবান পেসার খুঁজে বের করতে শুরু হয়েছে বোলার হান্ট কার্যক্রম। দেশের ৯টি ভেন্যুতে চলছে এই প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি। এর লক্ষ্য, নতুন ও সম্ভাবনাময় বোলারদের খুঁজে বের করে তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা।
সোমবার ঢাকায় আয়োজিত বাছাই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। সেখানে নতুন পেসারদের সম্ভাবনা দেখে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, দীর্ঘ বিরতির পর এ ধরনের উদ্যোগ দেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত এমন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
দীর্ঘ বিরতির পর প্রতিভা খোঁজার উদ্যোগ
বোলার হান্টের উদ্যোগকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে সালাউদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন পর আবারও নতুন খেলোয়াড় খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের সামনে আসার সুযোগ তৈরি করতে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, “এটা অনেকটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। অনেক দিন পর আবার খেলোয়াড় খোঁজার প্রক্রিয়া হচ্ছে। আশা করব, ভবিষ্যতেও এ রকম উদ্যোগ আরও হবে। আমার বিশ্বাস, এখানে অনেক সহজাত প্রতিভা আছে, যা ভবিষ্যতে আমাদের কাজে লাগবে।”
সালাউদ্দিনের প্রত্যাশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া প্রতিভাদের পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে। তাতে দেশের ক্রিকেটের জন্য নতুন পেসার তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে।
ক্রিকেটে নতুন, তবু সামর্থ্যে নজর কাড়ছে তরুণেরা
বাছাই কার্যক্রমে এমন কয়েকজন তরুণের সন্ধান পাওয়া গেছে, যাঁদের কেউ আগে কখনো ক্রিকেট খেলেননি, আবার কেউ একেবারে নতুন করে খেলা শুরু করেছেন। ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা কম হলেও তাঁদের শারীরিক গঠন ও সামর্থ্য দেখে সম্ভাবনা দেখছেন সালাউদ্দিন।
তাঁর মতে, পেস বোলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক সক্ষমতা থাকলে এবং নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পেলে এসব তরুণের অনেকেই ভালো বোলার হয়ে উঠতে পারেন। তবে সম্ভাবনাকে বাস্তব দক্ষতায় রূপ দিতে প্রয়োজন সঠিক প্রশিক্ষণ, কারিগরি দিকনির্দেশনা ও ধারাবাহিক পরিশ্রম।
এ প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন বলেন, “অনেক সহজাত প্রতিভা পাওয়া গেছে, যারা হয়তো কখনো ক্রিকেটই খেলেনি, কিংবা একেবারে নতুন শুরু করছে। তাদের দৈহিক গড়ন ও শারীরিক সামর্থ্য ভালো। তারা ভবিষ্যতে সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে অনেক ভালো বোলার হয়ে উঠতে পারে।”
ঘণ্টায় ১৩৮ কিলোমিটার গতির বোলারকে দেখে উচ্ছ্বাস
ঢাকার বাছাই কার্যক্রমে কয়েকজন সম্ভাবনাময় বোলারকে দেখেছেন সালাউদ্দিন। তবে শুধু ঢাকার পারফরম্যান্স দেখে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করতে চান না তিনি। দেশের অন্য বিভাগগুলোতে আরও ভালো বোলার থাকতে পারেন বলে মনে করেন এই কোচ।
তাঁর মতে, সব ভেন্যুর বাছাই কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই পাওয়া প্রতিভাদের মান ও সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বোঝা যাবে। এর মধ্যেই ঘণ্টায় ১৩৮ কিলোমিটার গতিতে বল করতে সক্ষম এক তরুণকে দেখে বিশেষভাবে আনন্দিত হয়েছেন তিনি।
সালাউদ্দিন বলেন, “এখানে আমি কিছু ভালো বোলার দেখেছি। অন্য বিভাগে হয়তো এর চেয়েও ভালো বোলার থাকতে পারে। চূড়ান্ত বাছাইয়ের পরই তুলনা করতে পারব, আমরা কতটা ভালো প্রতিভা পেয়েছি। একটা ছেলে যখন ১৩৮ কিলোমিটার গতিতে বল করে, তখন খুশি না হয়ে আসলে কোথাও যেতে পারব না। অনেক খুশি হয়েছি। দোয়া করি, ভবিষ্যতে সে যেন আরও উন্নতি করতে পারে।”
পরিচর্যা পেলে তৈরি হতে পারে নতুন পেসার
বোলার হান্টে পাওয়া প্রতিভাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে পরবর্তী ধাপের বাছাই, প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগের ওপর। বিশেষ করে নতুনদের ক্ষেত্রে বোলিংয়ের কৌশল, ফিটনেস, নিয়ন্ত্রণ এবং ইনজুরি প্রতিরোধের বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।
সালাউদ্দিনের বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধু বলের গতি নয়—সঠিক পরিচর্যা ও উন্নতির সুযোগ পেলে নতুন বোলারদের সামর্থ্য আরও বিকশিত হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, দেশের ৯টি ভেন্যু থেকে উঠে আসা প্রতিভাদের মধ্য থেকে কতজন দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করে বাংলাদেশের ক্রিকেটে জায়গা করে নিতে পারেন।
0 Response to "১৩৮ কিমি গতিতে বল করে চমক"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন