খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩
খুলনার চাঞ্চল্যকর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেন হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারদের মধ্যে হাসনাত হাবিব রিফাত আদালতে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—হাসনাত হাবিব রিফাত, তারেক হাসান ওরফে রুবেল এবং প্রতাপ সরকার। সোমবার রাতে থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত খুলনা ও বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
হাসনাত হাবিব রিফাত সিরাজগঞ্জ সদর থানার গুনেরগাতি এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে এবং কৃষি ব্যাংকের নওয়াপাড়া শাখায় কর্মরত। তারেক হাসান ওরফে রুবেল খুলনার হরিণটানা থানার খানজাহান নগর এলাকার লাল মিয়ার ছেলে। অন্যদিকে প্রতাপ সরকার অভয়নগর উপজেলার ধূলগ্রাম সিদ্দিপাশা গ্রামের শিবপদ সরকারের ছেলে।
গ্রেপ্তারের পর হাসনাত হাবিব রিফাতকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বিচারক ইব্রাহিম খলিল মুহিম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এসআরবি জানায়, নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আজমুল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রিফাত। ঘটনার পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা ও বরিশাল এসআরবির যৌথ দল সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার কুড়িয়ানা আদাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত আজমুল হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা গেটসংলগ্ন এলাকা থেকে জুস বিক্রেতা তারেক হাসান ওরফে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবির দাবি, রুবেলও আজমুল হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে ‘চোর চোর’ চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। সেখানে গিয়ে আজমুলকে কয়েকটি লাথি ও কিল-ঘুষি মারেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান তিনি। পরে রুবেলকে হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বরিশালের উজিরপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপর আসামি প্রতাপ সরকারকে গ্রেপ্তার করে। কেএমপির গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া জানান, উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতাপের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে খুলনা গোয়েন্দা কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান তিনি।
হরিণটানা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. রাসেল হোসেন জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামির মধ্যে রিফাত হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে খুলনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, শুক্রবার গভীর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রোডসংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি চারতলা ভবনের ছাদে ভাত চুরির অভিযোগে আজমুলকে মারধর করা হয়। পরে ওই ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শনিবার রাতে নিহত আজমুলের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় মামলা করেন। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন রবিন, মুবিন, সাগর ও ওবাইদুল। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলার এজাহারভুক্ত ওই চার আসামির কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
0 Response to "খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন