গাইবান্ধায় কুকুর-শিয়ালের কামড়ে মৃত্যু ও আহতের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দল

গাইবান্ধায় কুকুর-শিয়ালের কামড়ে মৃত্যু ও আহতের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দল


 গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে কুকুরের কামড়ে সাত বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু এবং সুন্দরগঞ্জে শিয়ালের কামড়ে নারী-শিশুসহ নয়জন আহত হওয়ার ঘটনায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ দল মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে অসুস্থ গাভীর মাংস কাটার পর কয়েকজনের শরীরে ফোসকা দেখা দেওয়ার ঘটনাও পর্যবেক্ষণে নেওয়া হয়েছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের হাটবামুনী গ্রামে কুকুরের কামড়ে সিনথিয়া আক্তার (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় রাকিব হোসেন (২৬) নামে এক যুবকও আহত হন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, বিকেলে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে সিনথিয়াকে একটি কুকুর ধাওয়া করে। একপর্যায়ে কুকুরটি তার গলায় কামড় দিলে গুরুতর জখম হয়। একই সময় রাকিবের হাতেও কামড় দেয় প্রাণীটি।

স্বজন ও স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সিনথিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। রাকিবকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে কুকুরটিকে মেরে ফেলা হয়।

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. তানভীক জাহান জানান, শিশুটির গলায় গভীর ক্ষত হয়েছিল এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কি না তা পরীক্ষা করতে এর নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ২০ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের জিগাবাড়ী ও তালুক বেলকা এলাকায় একটি শিয়ালের হামলায় নারী ও শিশুসহ নয়জন আহত হন। আক্রান্তদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছেন। একই ঘটনায় দুটি গরুও শিয়ালের কামড়ে আহত হয়েছে।

আহতদের মধ্যে রাবেয়া বেগম (৩৮), রাকিবুল হাসান (১৩), এনামুল হক (২৬), আয়শা আক্তার (৩) ও হাসান মিয়া (৭) রয়েছেন। তালুক বেলকা গ্রামের লিলি বেগম (৩৫), সাদেক হোসেন (৭০), আফরুজা বেগম (৩৭) ও শাওন মিয়া (৬)ও আহত হয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেলে শিয়ালটি হঠাৎ বিভিন্ন বাড়ির আশপাশ ও চলাচলের পথে থাকা মানুষকে আক্রমণ করে। কয়েকজনের মুখ, ঠোঁট, কপাল ও হাতে কামড় দেয় প্রাণীটি। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে স্থানীয়রা শিয়ালটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।

এর পাশাপাশি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বাছহাটি গ্রামে অসুস্থ একটি ফ্রিজিয়ান গাভী জবাই করে মাংস কাটায় অংশ নেওয়া কয়েকজনের শরীরে পরবর্তী সময়ে ফোসকা দেখা দেওয়ার ঘটনাও নজরে এসেছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর গাভীটি জবাইয়ের পর বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ মাংস কাটার কাজে অংশ নেন। কয়েকদিন পর প্রথমে চারজন এবং পরে আরও কয়েকজনের শরীরে ফোসকা দেখা দেয়।

গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জোবাইদুল কবীর জানান, কুকুর ও শিয়ালের কামড়ে আক্রান্তদের মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সুন্দরগঞ্জের শিয়ালের মাথা এবং সাদুল্লাপুরের কুকুরের নমুনা সংগ্রহ করে র‍্যাবিস রোগ শনাক্তকরণ ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (সিডিআইএল) পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুই উপজেলায় মানুষ ও গবাদিপশু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এপিডেমিওলজি ইউনিটের একটি উচ্চপর্যায়ের ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন টিম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করছে। তারা এসব ঘটনার উৎস ও কারণ অনুসন্ধান করছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, জলাতঙ্কের ঝুঁকি রয়েছে এমন প্রাণীর কামড়ের পর ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত র‍্যাবিসের টিকা এবং চিকিৎসকের পরামর্শে অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ রওজাতুন জান্নাত জানান, আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং উপজেলার কুকুরগুলোকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় টিকা মজুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

এর আগে চলতি বছরের ২২ এপ্রিল সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একটি কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ ২১ জন আহত হন। পরবর্তী সময়ে ৬ থেকে ১৩ মে-এর মধ্যে আক্রান্তদের মধ্যে তিন নারী ও দুই পুরুষসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

0 Response to "গাইবান্ধায় কুকুর-শিয়ালের কামড়ে মৃত্যু ও আহতের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দল"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন